নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো: আমজাদ হোসেন খাঁন বলেছেন, আগামী প্রজন্মকে মেধা মননে আলোকিত করতে হলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, সমাজে অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা অসম্ভব মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিজেদের সঠিকভাবে বিকশিত করতে পারে না। উন্নত শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য এ সকল অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো একটি মহৎ কাজ। আমাদের একটু সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে। গতকাল দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের দিশা টাওয়ার মিলনায়তনে আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’ সমাজের অসহায়, দুস্থ এবং অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানসহ শিক্ষা ও সংস্কৃতির মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমি মনে করি, এ ফাউন্ডেশন থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে। পরবর্তী জীবনে তারাও এভাবে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং আগামী প্রজন্মকে মেধা মননে আলোকিত করতে হলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে বলেও জানান তিনি।
ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলহাজ্ব বেলায়েত শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আলহাজ্ব মোঃ বশির আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য হাফিজ আল আসাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আনোয়ারুল কবির, ময়মনসিংহের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ও বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ডীন শেখ সুজন আলী, ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’র চেয়ারম্যান নার্গিস আহমেদ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার আব্দুর রশীদ বকুল, জাতীয় সাতারু প্রশিক্ষক আমিরুল ইসলাম। অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক নাজমুল হুদা।
সভাপতির বক্তব্যে ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোঃ বশির আহমেদ বলেন,
পিতার নামে শিক্ষা, চিকিৎসা সহায়তাসহ অনেক সামাজিক কাজে আত্মনিয়োগ করার চেষ্টা করেছি যা আজকে এটা তারই একটা অংশ। আমি মনে করি এস, এস, সি পাশের পর উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের জন্য এ টাকা কিছু নয়। তারপরও মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে উৎসাহ পায়, উচ্চ শিক্ষায় আরও এগিয়ে যায় সে জন্য এ উদ্যোগ। তিনি বলেন, আজকে ৫০ জনের মধ্যে ১০ লাখ টাকা আগামীতে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। মান সম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার ইচ্ছাও রয়েছে। এছাড়াও উচ্চ শিক্ষা যেমন মেডিকেলে, বুয়েটে চান্স পাওয়ার যদি কোন সহযোগীতার প্রয়োজন হয় তখনও বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন তোমাদের পাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমার শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি।
আমি আরও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। আসুন আমরা সকলেই মিলে হাতে হাত রেখে এই কুষ্টিয়ার উন্নয়নে কাজ করি। পরে কুষ্টিয়া জেলার এস,এস,সি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৩ সালে কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলা থেকে বাছাইকৃত জিপি-৫ প্রাপ্ত ৫০ জনকে বৃত্তি প্রদানের ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।