আজাদীর কন্ঠ ডেস্ক:
বাংলাদেশের সারা জাগানো ইসলামি স্কলার / বক্তা ও ক্যান্টনমেন্ট ফরিদপুর নতুন বাজার জামে মসজিদ,সদর, যশোরের সদ্য নিজ থেকে অব্যাহতি নেওয়া খতীব মুফতী নাঈমুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নানান ষড়যন্ত্র। তিনি অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন যে, আমি নাঈমুল হক আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে আমার জুমআ”র মসজিদে নিয়মিত জুমআ”র নামাজ পড়িয়ে থাকি। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে মসজিদটি দলীয়করণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে, সে জন্য আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মসজিদের উপর চলেছে নানান ষড়যন্ত্র ও চরম বেয়াদবি, এ যেনো জাহিলিয়াতের যুগকেও হার মানাবে, মসজিদের মধ্যে নেশাদ্রব্য সেবন করে রেখে যাওয়া থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন স্তর পায়খানা পর্যন্ত মসজিদের মধ্যে রেখে গিয়েছে। তবু আমি নাঈমুল হক হক্ব কথা বলতে একটুও পিছপা হয়নি। অবশেষে দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্রের স্বীকার হতে হতে ইস্তেখারা আমলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আর নয় চাপা কষ্ট, এবার বিশ্বের মুসলিমদের জানা উচিৎ যে, আমার জুমআর মসজিদ ক্যান্টনমেন্ট ফরিদপুর নতুন বাজার জামে মসজিদ, সদর, যশোরে একটি মহল কিভাবে আল্লাহ তায়ালার ঘরের উপরে রাজনৈতিক দলীয়করণ ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মস্তিষ্ক নিয়ে মসজিদের সঙ্গে চরম বেয়াদবি করেছে।
এমনিভাবে মুফতী নাঈমুল হক সাংবাদিকদের নিকট নিজের অভিযোগ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও ভার্চুয়াল জগতে তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকেও তিনি রমজানের ২৭তম রজনীতে বিস্তারিত তুলে ধরে এভাবে বলেন যে, রমজানের এই ২৭তম রজনীতে আমার সম্মানিত মুসল্লীবৃন্দ ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের হাই কমান্ডের প্রতি আকুল আবেদন।
প্রিয় মুসল্লীবৃন্দ!
মীমাংসিত একটি বিষয় নিয়ে আমাকে আবারো এভাবে লিখতে হবে তা কখনই ভাবিনি। যদি একটু গোড়া থেকে আসি তাহলে বলবো,সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকেই এই মসজিদটির প্রতি শকুনের কু-নজর লেগেই আছে। প্রথমে ধারাবাহিকভাবে দুইবার আল্লাহর ঘরের মধ্যে রাতে এবং দিনে বাকরুম নিক্ষেপ করা,সিগারেট পান করা,জুতা পায়ে হাটা,দানবাক্স ভাঙ্গা সহ ইতিহাসের রেকর্ড ভেঙ্গে আল্লাহর ঘরের সঙ্গে একের পর এক বেয়াদবি করতে থাকলো একটি কুচক্রি মহল। সিসি টিভি ফুটেজ বের হলেও অদৃশ্য কারনে দুর্বৃত্তরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে।আমি মিম্বর থেকে চিৎকার করে করে বলেছিলাম তাদেরকে আমি ছাড়বো না,আপনারাও যদি তাদেরকে কেউ শেল্টার দেন তাদেরও ধংশ অনিবার্য। শুরু হলো আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ,মনে হলো মসজিদ নয় আমিই তাদের মূল টার্গেট।
(আশ্চর্যজনক হলেও অবশেষে সেটাই প্রমানিত হলো)
রমজানের প্রথম জুম’আর বায়ান চলা অবস্থায় তারাবির নামাজের রাকাত নিয়ে সমগ্র মুসল্লীদের সামনে আমার বয়ানে কাউন্টার দিয়ে বেয়াদবি করলেন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এক ভাই। কষ্টে অভিমানে দুই জুম’আ নামাজ পড়াতে যাই নি,কমিটির ময়মুরব্বীদের অনুরোধে গত জুম’আতে গিয়েছিলাম শেষ জুম’আ পড়ানো এবং বিদায় নেওয়ার নিয়তে। কিন্তু আপনাদের মধ্যে যে অনুশোচনা আর ভালোবাসা দেখেছি,মহিলাদের পক্ষ থেকে অন্তত ৫০ জনের নাম স্বাক্ষরিত অনুরোধের চিঠি,কমিটির পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এমন বেয়াদবি করতে না পারে সে ব্যপারে শক্ত ভুমিকা রাখার ওয়াদা দেখে এবং মিটিংয়ে আমার মুরব্বি হিসাবে উপস্থিত থেকে মুফতি উসমান গনী হাবিবী দা.বা. এর মধ্যস্থতায় আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবারো আপনাদের সাথে কন্টিনিউ করার ঘোষনা করি। এবং এই ঘোষনার পর থেকেই উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে অগ্রীম ঈদ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে,এবং সেই আনন্দ ঘরে ঘরে পৌছে,খুশীতে বহু নারী পুরুষ আনন্দাশ্রু ফেলে। কিন্তু দুদিন আগে হঠাৎ আবারো কমিটির পক্ষ থেকে বলা হলো
” যেহেতু আমরা আপনার নিরাপত্তা দিব ওয়াদা দিয়েছি সেজন্য আপাতত জুম’আ পড়াতে না আসার অনুনয় করছি “
এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে কমিটির সভাপতিসহ মিটিংয়ে উপস্থিত প্রায় সকলেই অশ্রুসিক্ত হয়েছেন।
প্রিয় মুসল্লীবৃন্দ।
এবার আসুন জেনে নিই কি এমন হয়েছে যার কারনে হঠাৎ আপনাদের কমিটির পক্ষ থেকে আমার নিরাপত্তা দিতে অপারগতার আশংকা। তার কারনই হলো স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কয়েকজন নেতাকর্মী। জুলাই বিপ্লবের পরে কতিপয় লোকজন মূলতো চেয়ছিলো খতিব তাদের দলীয় কেউ হোক,শুধু খতিব নয় পাঞ্জেগানা ঈমাম এমনকি মুয়াজ্জিনও তাদের দলের কেউ হোক এটা তারা মনে প্রানে চেয়েছে,আরো আশ্চর্যের ব্যাপার হলো বিকল্প মুয়াজ্জিনও তারা রেডি করে রেখেছে।অথচ শুধু মুসল্লি নয় বরং আপনারা এলাকার সর্বশ্রেনীর ৯৯% মানুষ মসজিদের এখনকার সেটাপের উপরে খুশি আছেন এবং আপনারা কেউই চাননা আল্লাহর ঘরটা দলীয় করণের বলী হোক। যে কারনে তারা একের পরে এক ষড়যন্ত্রের জাল বুনে রেখেছে এবং পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধভাবে সেগুলো প্রয়োগ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আল্লাহর ঘরের সঙ্গে বেয়াদবি,আরো কম বেতনে হলেও বিকল্পী (দলীয়) মুয়াজ্জিন নিয়োগের লোভনীয় প্রস্তাব,খতিবের সাথে প্রকাশ্য দলের খাছ কর্মীদের দ্বারা বেয়াদবি করানো সহ নানান অপপ্রচার এবং প্রকাশ্য ও গোপন ষড়যন্ত্র তো আছেই। তবে সবকিছুই যখন এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষেরা ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করে সম্পূর্ণ পরিবেশ ঠান্ডা করে ফেলেছে ঠিক তখনই শুরু হয়েছে তাদের ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিক পর্বের ফায়নাল পর্ব।সেটা হলো গত শুক্রবারে যখন আবারো আমি সেখানে যাওয়ার ঘোষনা করি ,এখন তারা হুমকি ধমকি দিয়ে কমিটি ও আপনারা এলাকাবাসীকে ভীতসন্ত্রস্ত করতেছে,এমন কিছু বলা এবং করা শুরু করেছে যা শুনে কমিটির পক্ষ থেকে আমার নিরাপত্তার চিন্তাই তারা আমাকে আপাতত যেতে নিষেধ করেছে।যে কারনে আমি আপাতত আপনাদের মাঝে আসতে পারছি না বলে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আমরা মজলুম,যারা ইসলামী সংগঠনকে ঢাল বানিয়ে আল্লাহর ঘর নিয়ে এমন ঘৃন্য রাজনীতি করছে তাদের বিচার আরশে আজীমে চলে গিয়েছে। আমরা আরশের ফায়সালার অপেক্ষায় রইলাম।
প্রিয় মুসল্লীবৃন্দ।
সব থেকে বেশি কষ্ট লাগছে বৃহস্পতিবার হিসাবে আজ রাতে আগামীকালকের জুম’আর বয়ানের শিট রেটি করতে পড়াশোনা ও লেখালেখি করার কথা যা প্রতি বৃহস্পতিবার রাতেই করে থাকি,কিন্তু আশ্রুশিক্ত নয়নে আমাকে এই রজনীতে এমন পোষ্ট লিখতে হচ্ছে। আমি আপনাদেরকে সবরের পরামর্শ দিচ্ছি,আমার প্রতি ভক্তি / ভালোবাসা প্রদর্শন করতে গিয়ে অতি আবেগে কেউ এমন কিছু করা যাবে না যাতে রমজানের ভাবগাম্ভীর্যতা ও মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হয়। আমি আপনাদের মাঝে একদিনের জন্য হলেও আসবো ইনশাআল্লাহ ,বিজয়ীর বেশে,শত্রুদের চোঁখের সামনে দাড়িয়ে বলবো আমি এবং আপনাদের ভালোবাসা নির্দোষ। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুক।
ইতি : এক মাজলুম খতিব, নাঈমুল হক। সাবেক খতিব,ক্যান্টনমেন্ট ফরিদপুর নতুন বাজার জামে মসজিদ,সদর,যশোর।
-এদিকে মুফতী নাঈমুল হক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন যে,
জামায়াতের কর্ণধারগণের প্রতি আকুল আবেদন। আমি ব্যাক্তিগতভাবে জামায়াতে ইসলাম করি না এটা সত্য,তবে জামায়াতের নেতা কর্মীদের সাথে আমার মুহাব্বতের কোন ঘাটতি নেই,দেশ জাতির এই ঐতিহাসিক ঐক্যের মুহুর্তে আপনাদের সংগঠনের নাম নিয়ে এমন কিছু লিখতেও আমার বিবেকে বাধা দিয়েছে,কিন্তু আমি মনে করি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামিক আদর্শের সংগঠন। এ ধরনের লোকদেরকে নিয়ন্ত্রণ না করলে আপনাদের সংগঠনের প্রতিও আল্লাহর লা’নত আসবে। বিগত ১৬ বছরে শৈরাচার কর্তৃক সব থেকে বেশি জুলুমের শিকার দলটির নেতা কর্মীরাও যদি জালিমদের মত আলেমদের সাথে বেয়াদবি করে,পেশি শক্তি প্রয়োগ করে ,আল্লাহর ঘর নিয়ে ঘৃন্য রাজনীতি করে এলাকার জামায়াতের সমর্থনকে জিরো পার্সেন্টে নিয়ে আসে ,তবুও জেলা জামায়াত বা কেন্দ্র থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করে তাহলে আমি মনে করি আল্লাহ উত্তম বিচারক। আমার কথার সত্যতা যাচাই করার জন্য আপনারা তথ্য সংগ্রহ করতে টিম পাঠান,আমার কথাগুলো সঠিক হলে তাদের বিরুদ্ধে উত্তর ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশা রাখি।