• রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত আগামী প্রজন্মকে মেধা মননে আলোকিত করতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে মাগুরার ধলহরায় বায়তুল হিকমাহ পাঠাগার উদ্ভোদন মাগুরায় চাউলিয়া ইউনিয়ন ব্লাড ডোনার্স গ্রুপের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত মসজিদে ঢুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ৭ লাখ মুসলিম হত্যার মাধ্যমে এপ্রিল ফুলের সূচনা  ঈদগাহে টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ দেশবাসীর প্রতি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমীরের ঈদের শুভেচ্ছা অনেকটা হারিয়ে যাচ্ছে ঈদ কার্ড আদান প্রদান; এ প্রজন্ম জানেই না এর গল্প ইসলামী আন্দোলন ভেড়ামারা জুনিয়াদহ ইউনিয়নে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঈদের কেনাকাটা জমে উঠলেও বাড়তি দামে ক্রেতাদের ক্ষোভ

মসজিদে ঢুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ৭ লাখ মুসলিম হত্যার মাধ্যমে এপ্রিল ফুলের সূচনা 

ধর্মীয় প্রতিবেদক / ৩২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫

ধর্মীয় ডেস্ক:

এপ্রিল মাসের পহেলা তারিখ সারা বিশ্বের মুসলমানদের নিকট একটি স্মরণীয় ও হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক দিন। এ দিনে ইয়াহুদীরা মুসলমানদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করে বোকা বানিয়ে মসজিদে ঢুকিয়ে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে ৭ লাখ মুসলামদনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ দিনে মুসলমানদের বোকা বানিয়ে হত্যা করার সফলতা হিসাবেই ইয়াহুদীরা প্রতি বছর এ দিবসকে এপ্রিল ফুল বোকা দিবস হিসাবে পালন করে। অনেকেই না জেনে আজকাল মুসলমানরাও এ দিবসটি পালন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

এপ্রিল ফুল মানে – লক্ষ লক্ষ মুসলমানদেরকে মসজিদে আটক করে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করার ন্যাক্কারজনক ইতিহাস। এপ্রিল ফুল মনে – মুসলিম নারী-পুরুষের ‘বাচাঁও’ ‘বাচাঁও’ আহাজারি। এপ্রিল ফুল মানে – ধোঁকা ও প্রতারণা করে নিরীহ-নিরস্ত্র মুসলমানদেরকে হত্যা করার কালো অধ্যায়। এপ্রিল ফুল মানে মুসলিম জাতির ৮ শত বছরের শাসনামলের অবসানের ইতিহাস। 

সূত্রমতে, এপ্রিল হচ্ছে ইংরেজী সনের ৪র্থ মাস। আর ফুল অর্থ বোকা। সুতরাং এপ্রিল ফুলের অর্থ দাঁড়ায় – এপ্রিলের বোকা। এর উদ্ভাবক মুসলমানদের সাথে প্রতারণাকারী খৃষ্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ড আর তার রাণী ঈসাবেলা। এ ছাড়াও এ ব্যাপারে আরো একাধিক ঘটনার কথা ইতিহাসে জানা যায়। তন্মধ্যে ইতিহাসের পাতা থেকে তিনটি কাহিনী এখানে উল্লেখ করা হলো।

প্রথম ঘটনা হলো,হযরত ঈসা (আ.) যখন ইঞ্জিল কিতাব নিয়ে এসে দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইলেন, তখন ইয়াহুদী পাদ্রীরা ক্ষেপে উঠলেন। কারণ, তারা ভাবলেন, এতে তাদের পাদ্রীত্ব নষ্ট হয়ে যাবে। তাই তারা রোম সম্রাটকে উস্কানি দিলেন যে, আপনারা যদি ঈসাকে প্রতিরোধ না করেন, তাহলে তিনি আপনাদের রাজত্ব দখল করে নিবেন। তাদের কথা শুনে রোম সম্রাট তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করলেন।

তখন ঈসা (আ.) যখন মামলার হাজিরা দিতে যান, তখন বিচারপতিরা বলেন – আপনার বিচার এখানে নয়; অমুক আদালতে। সেখানে গেলে বলেন – এখানে নয়, অন্য আদালতে। তাদের উদ্দেশ্য হলো ঈসা (আ.)কে অপমান করা এবং বোকা বানানো। সেই দিনটি ছিলো এপ্রিলের প্রথম তারিখ। এই ঘটনার পর থেকে কুচক্রী ইয়াহুদীরা প্রতি বছর ১লা এপ্রিলে সেই ঘটনাকে স্মরণ করে একে অপরেকে বোকা বানিয়ে এপ্রিল ফুল পালন করে। দ্বিতীয় সূত্র হলো, ইউরোপে ঋতুর পরিবর্তন শুরু হতো ২১শে মার্চ থেকে এবং এপ্রিল মাসে প্রকৃতির পূর্ণ পরিবর্তন আসতো। তখন লোকেরা মনে করতো – প্রকৃতি তাদের সাথে তামাশা করছে। তাই তারা প্রতি বছর ১লা এপ্রিল মাঠে-ময়দানে একে অপরকে বোকা বানিয়ে তামাশা উৎসব পালন করতো। এ দু’ঘটনা ছাড়াও এক্ষেত্রে আরো একটি বহুল প্রচলিত ঘটনা রয়েছে। তা হলো ৭২২ খৃষ্টাব্দে মুসলিম সেনা নায়ক মুসা বিন নূসাইর-এর পক্ষে সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদ স্পেন বিজয় করেন। স্পেন বিজয়ের পর সেখানে ইসলামী শিক্ষা, সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে গোটা ইউরোপ আলোড়িত হয়েছিলো। মুসলমানদের যশ-খ্যাতি দেখে খৃষ্টানচক্র ইসলাম ও মুসলিমদেরকে উৎখাতে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সুদীর্ঘ ৮০০ বছর ধরে মুসলমানদের গৌরবময় শাসন স্পেনে বহমান থাকে। কিন্তু কালের আবর্তনে মুসলিম শাসকগণ বিধর্মীদের মুকাবিলায় অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা ছেড়ে আরাম-আয়েশে মত্ত হলেন। এ সুযোগে কিছু বিশ্বাসঘাতককে হাত করে খৃষ্টানরা স্পেনে মুসলিম খিলাফতের উপর হামলা চালালো। খৃষ্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ড মুসলমানদের নির্মূল করে স্পেনে খৃষ্টিয় বলয় গড়ার লক্ষ্যে ১৪৬৯ সনে পর্তুগীজ রানী ইসাবেলাকে বিয়ে করলেন। রাণী ইসলাবেলাকে বিয়ে করার ফার্ডিন্যান্ডে দ্বিগুণ শক্তি বেড়ে গেল। স্বামী স্ত্রী উভয়ে মিলে যৌথভাবে মুসলিম নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। মুসলমানরা এহেন পরিস্থিতিতে দিগিবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। মুসলমানরা যখন পরাজিত হয়ে স্পেনের রাজধানী গ্রাণাডায় উপনীত হন। সেখানে অবস্থান করে শহরের প্রধান ফটক-দরজা যখন বন্ধ করে দেয়। এমতাবস্থায় খৃষ্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ড মুসলমানদেরকে সমূলে ধ্বংস করার হীনমানসে প্রতারণার ফাঁদ পাতলেন। রাজা ফার্ডিন্যান্ড ঘোষণা করলেন, যে মুসলমানরা তোমাদের উপর আর জুলুম নির্যাতন করা হবে না। নির্যাতন করা হবেনা। তোমাদের শিশু ও তোমাদের রক্ষা করা হবে। তোমাদেরকে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে। তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তবে এ জন্য তোমাদেরকে যা করতে হবে তা হলো তোমাদের কাছে কোন অস্ত্র থাকবে না। নগরীর দরজা খুলে দিতে হবে। তোমরা মুসলমান তোমরা মসজিদে অবস্থান করো। একথা শুনে শান্তিপ্রিয় সরলপ্রাণ মুসলমানরা নগরীর দরজা খুলে দিলেন। সকল ধরনের অস্ত্র রেখে মসজিদগুলোতে আশ্রয় নিলেন। মুসলমানরা মসজিদগুলোতে আশ্রয় নেওয়ার সাথে সাথে নরপশু ইহুদী-খৃষ্টানরা তখন মসজিদসমূহ তালাবদ্ধ করে দেয়। অবরুদ্ধ করে ফেলে ৭ লাখ মুসলমান বনি আদম। সুযোগ মত ইহুদীরা মসজিদগুলোতে আগুন লাগিয়ে দিলেন। নিষ্পাপ মুসলমানদের আহাজারীতে সেদিন স্পেনের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। সেখানে অবরুদ্ধ লক্ষ লক্ষ মুসলমান পুড়ে মারা গেলেন। কয়লায় পরিণত হলো ৭ লাখ মুসলমান। এই দৃশ্য অবলোকন করে ঘাতক রাজা ফার্ডিন্যান্ড তার রানী ইসাবেলাকে জড়িয়ে ধরে মুখে চুমো খেয়ে বলছিলেন : হায়রে মুসলমান, তোমরা এপ্রিল ফুল (এপ্রিলেরবোকা)! সেই দিনটি ছিলো ১৪৯২ সালের ১লা এপ্রিল। সেই থেকে প্রতিবছর ১লা এপ্রিল খৃষ্টানরা মুসলমানদের উপহাস করে এপ্রিল ফুল পালন করে।প্রতিবছর ১লা এপ্রিল খৃষ্টানরা এপ্রিল ফুল পালন করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানোর ট্রাজেডিকে স্মরণ করে। তাই এদিন মুসলমানদের স্পেনের সেই করুণ চক্রান্তের শিকার মুসলমানদের কথা স্মরণ করে ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ হতে হবে এবং ইসলাম ও মুসলমানদেরকে তাদের অশুভ থাবা থেকে হিফাজতের প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে।মসজিদের ভীতরে ঢুকিয়ে নামাজরত অবস্থায় আর হামলা নয়। মসজিদকে ঘিরে আর কোন নোংরা রাজনীতি নয়। মসজিদ আল্লাহর ঘর। এ ঘরকে হেফাযত রাখতে মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ থাকবে। ইহুদী পরাজিত শক্তি যেন আর মুসলমানদের রক্ত নিয়ে খেলা করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে এগিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা দেশপ্রেমিক মুসলমানদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category